মালদা

মা বিক্রি করে দেবে, এই ভয়ে ঘর ছাড়া মেয়ের ঠিকানা এখন সরকারি হোম

" মা খারাপ কাজ করাতে চায় এবং অন্যের কাছে বিক্রি করে দিতে চায় "  মায়ের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুলে স্কুলের শিক্ষিকার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছিলো স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রী। এখন তার ঠিকানা হোমে। জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রীকে এখন কিছু দিনের জন্য সরকারি হোমে রাখা হয়েছে। পরীক্ষা চলা পর্যন্ত সে সেখান থেকে লেখা পড়া করে পরীক্ষা দিবে। 

        CWC চেয়ার পার্সন চৈতালি সরকার জানান, পরীক্ষা শেষ হবার পর নির্ধারণ করা হবে তাকে কোথায় রাখা হবে। যদি কোন আত্মীয় তার দায়িত্ব নিতে চায় তাহলে তার হাতে ছাত্রীকে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু যদি ছাত্রীটির সম্মতি থাকে শুধুমাত্র তাহলে দেওয়া হবে। যদি তেমন কিছু না হয় তাহলে সরকারী ভাবে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি। 

        উল্লেখ্য,  গতকাল এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় মালদা শহরে। " মা আমাকে দিয়ে খারাপ কাজ করাতে চায়, অন্যের কাছে বিক্রি করে দিতে চায় " মায়ের নামে এমনই অভিযোগ তুলে স্কুলের শিক্ষিকাকে গোটা ঘটনা জানায় এই অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। মালদা শহরের ঘটনা। মেয়েকে বিক্রি করতে চেয়েছিল মা। এমন অভিযোগ এনেছে খোদ মেয়ে। বুধবার সেই ঘটনা লিখিতভাবে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে জানিয়েছে অষ্টম শ্রেণীর সেই ছাত্রী। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মা। বিষয়টি জেনে ইংরেজবাজার মহিলা থানায় খবর দেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। তারপর স্কুলে ওই ছাত্রীর মা’কে জিজ্ঞসাবাদ করেন ইংরেজবাজার মহিলা থানার আইসি। 

        বর্তমানে ওই মা ও মেয়ে শহরের মালঞ্চপল্লি এলাকায় থাকেন। মেয়েটির বাবা হৃদয় ঘোষ পেশায় শ্রমিক, ভিন রাজ্যে কাজ করে। তাদের বাড়ি শহরের বিশ্বনাথ মোড় এলাকায়। ভাই দীপঙ্কর পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। মেয়েটি জানিয়েছে, মাস পাঁচেক আগে তাকে ও ভাইকে নিয়ে তাদের মা শহরের মালঞ্চপল্লী এলাকায় চলে আসেন। সেখানে ভাড়া বাড়িতে তারা থাকেন।   
 
        রামকিঙ্কর গার্লস হাইস্কুলের ওই ছাত্রী জানায়, কিছুদিন ধরে তার মা তাকে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। মা তাকে খারাপ পথে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করে মেয়ে। মাঝেমধ্যেই মোবাইল ফোনে মা কারোর সঙ্গে কথা বলে তাকে বিক্রি করে দেওয়ার কথাও বলাবলি হয়। এসব কথা সে তার দিদিমাকে জানায়।  সে বাড়িতে না জানিয়ে দিদিমার বাড়িতে চলে যায়। এরপর দিদিমাকে তার মার সম্পর্কে সব কথা খুলে বলে। দিদিমার পরামর্শে সে মাসির বাড়ি থেকে পরীক্ষা দিতে স্কুলে আসে। এরপর পরীক্ষা চলাকালীন সে জানতে পারে, তার মা স্কুলে এসে বসে আছে। এরপরই সে গোটা ঘটনা প্রধান শিক্ষিকাকে জানায়। সে আর মায়ের কাছে ফিরতে চায় না। সে পড়াশোনা করে বড়ো হতে চায়। তার মায়ের কাছে সে ফিরে গেলে তাকে নষ্ট হতে হবে এমনকি তাকে বিক্রিও হতে হতে পারে অন্য কারো কাছে। তাই সে স্কুলের শিক্ষিকাকে জানান সে বাড়ি ফিরতে চায় না।  

        মেয়েকে বিক্রি করে দেওয়ার কথা মা পুতুল ঘোষকে জিজ্ঞাসা করা হলে। মেয়ের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মা পুতুল ঘোষ। তিনি বলেন, “অনেক কষ্টের মধ্যেও তিনি ছেলেমেয়েকে পড়াশোনা করাচ্ছেন। কোনও মা মেয়েকে বিক্রি করে দিতে পারে না। তাঁর মেয়ে গতকাল থেকে বাড়িতে ফেরেনি। তাই তিনি মেয়েকে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এসেছেন। মেয়ে যা বলছে, তা ঠিক নয়।” মেয়ে যা বলেছে তা সবই মিথ্যা। আমার হাজার কষ্ট হলেও লোকের বাড়িতে বাসন মেজে কাজ করে আমি তাদের লেখাপড়া করাতে চাই বলে জানান ওই ছাত্রীর মা পুতুল ঘোষ।  
          
        স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুদীপ্তা সরকার জানান, আজ ওই ছাত্রী স্কুলে পরীক্ষা দিতে আসে। পরীক্ষা চলাকালীনই ওই ছাত্রীর মা তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্কুলে আসেন। ওই ছাত্রী তাঁকে জানায়, তার মা খারাপ কাজকর্ম করেন। তাকেও তিনি সেই পথে নামাতে চান। এমনকী তাকে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টাও করা হচ্ছে। এমনটা ফোনে শুনেছে সে। তাই সে আর বাড়ি ফিরে যেতে চায় না। পড়তে চায়। এসব শোনার পর তিনি পুলিশ, জেলা সমাজকল্যাণ দপ্তর ও স্থানীয় কাউন্সিলরকে ঘটনাটি জানান। তাঁরা চান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেয়েটির থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। তাকে সুস্থভাবে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়া হোক। আর তা পড়াশোনা সংক্রান্ত বিষয়টি স্কুল কতৃপক্ষ যথা সম্ভব চেষ্টা করবে তার সাহায্য করার। 
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে  
https://www.youtube.com/embed/wx_i6cZh7S8